মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ কুড়া (ধানের খশি) ক্রয়ের এক’শ টাকার জন্য পোশাক শ্রমিক সজিব আকন (২০) ও তার পরিবারের ছয়কে কুপিয়ে জখম করে প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদা ও তার লোকজন। ঘটনার ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে আহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার এমন মৃত্যুকে এলাকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে গত ২১ মার্চ (ঈদুল ফিতরের দিন) সকালে।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭০০ টাকায় দুই মণ কুড়া ক্রয় করে। সোনা মিয়া প্যাদা ওই কুড়া বাবদ বাজার মুল্যের চেয়ে আরো এক’শ টাকা দাবী করেন। এ টাকা নিয়ে বৃদ্ধ আয়নালী আকনের (৭০) সঙ্গে গত ৫ মার্চ সোনা মিয়ার প্যাদার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় সোনা মিয়া প্যাদা প্রতিবেশী আয়নালী প্যাদাকে মারধর করেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ২১ মার্চ অর্থ্যাৎ ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০ টার দিকে আয়নালী আকনের তিন ছেলে তার বাবাকে মারধরের বিষয়ে সোনা মিয়া প্যাদার কাছে জানতে যান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক ঘন্টা পরে সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী আয়নালী আকনের বাড়ীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তারা আয়নালী আকন, আল আমিন আকন, সজিব আকন ও রোকেয়া বেগমসহ ছয় জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। দ্রুত স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেন। ওইদিন রাতেই সংঙ্কটজনক অবস্থায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসার ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে সজিব আকন মারা গেছেন। অপর আহতরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ২২ মার্চ নিহত সজিব আকনের বড় ভাই রুহুল আমিন আকন বাদী হয়ে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামী করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে গত ২৪ মার্চ এ মামলার ৮ জন আসামী আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। নিহত সজিব আকন ঢাকায় পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২০ মার্চ বাড়ী যান।
নিহত সজির আকনের ভগ্নিপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার শ্বশুর আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭’শ টাকায় দুই মণ কুড়া ক্রয় করেন। এ কুড়া বাবদ আরো একশত টাকা সোনা মিয়া দাবী করেন। এ নিয়ে আমার শ্বশুরকে সোনা মিয়া প্যাদা গত ৫ মার্চ মারধর করেছে। এর জের ধরে গত ২১ মার্চ অর্থ্যাৎ ঈদুল ফিতরের দিন সকালে পুনরায় আমার শ্বশুর বাড়ীতে সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ সন্ত্রাসী এসে বাড়ীর সকলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত চার জনের মধ্যে পোশাক শ্রমিক সজিব আকন সোমবার দুপুরে মারা গেছেন। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সোনা মিয়া প্যাদা ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ৮ জন আসামী আদালত থেকে জামিনে আছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply